
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মনপুরা উপজেলার এক অসহায় কৃষাণী খাদিজা বেগমের ৪ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে দিয়েছে বাংলাদেশ যুব রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, মনপুরা ইউনিট। মানবতার এমন উদ্যোগে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বামী বিয়ের কিছুদিন পরই এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী। স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের সব দায়িত্ব এসে পড়ে খাদিজা বেগমের কাঁধে। সংসার চালাতে তিনি কখনো মানুষের বাসায় কাজ করেছেন, কখনো আবার স্থানীয়ভাবে রান্নার কাজ নিয়ে দিন কাটিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মনপুরা থানায় স্টাফদের জন্য রান্নার কাজসহ স্থানীয় দুই পরিবারের গৃহকর্মীর দায়িত্ব পালন করছেন। সেই উপার্জন দিয়েই চলে স্বামীর চিকিৎসা, সংসার খরচ ও সন্তানের প্রতিপালন। এরই মাঝে এবছর খাদিজা স্থানীয় এক কৃষকের কাছ থেকে নগদ চুক্তিতে চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। কিন্তু অর্থের অভাবে পাকা ধান জমিতে পড়ে থাকলেও কাটতে পারছিলেন না তিনি। দিনের পর দিন জমিতে পাকা ধান ঝরে পড়ছিল—কিন্তু খাদিজার অসহায়ত্বের কারণে হাত তুলতে পারছিলেন না কেউ। এ অবস্থায় মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয় মনপুরা যুব রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি।
এই মহৎ উদ্যোগের প্রথম প্রস্তাব দেন সংগঠনের সদস্য মোঃ সানিয়াদ শাকিল। পরে সংগঠনের উপপ্রধান আবিদ হোসেনের নেতৃত্বে দলগতভাবে খাদিজার চার বিঘা ধান কেটে ঘরে তুলে দেন যুব রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা। কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করেছেন আরও চার সদস্য—মোঃ ফজলে রাব্বি, তামজিদ আহমেদ সামি, হিমেল দাস ও মোঃ আব্দুল্লাহ। কৃষাণী খাদিজা বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“আমার জমির ধান কাটতে টাকা ছিল না। মনে করছিলাম ধান নষ্ট হইয়া যাইবো। কিন্তু এই ছেলেগো আচল না থাকলে আমি শেষ হইয়া যাইতাম। আল্লাহ ওদের ভালো করুক।”
স্থানীয়রা জানান, মনপুরায় এমন মানবিক কাজ খুব কম দেখা যায়। যুব রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা শুধু ধান কেটে দেননি, বরং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
Leave a Reply